নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয় দল। পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত ও বিএনপির নেতারা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা শেষে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদের ফোন কেড়ে নেয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গ্রামবাসী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আরও বলেন, নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই নিরীহ মানুষ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াতে ইসলাম পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করছে এবং সংঘর্ষের ঘটনাকে হামলা হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে জামায়াতের পক্ষ থেকে নওগাঁয় জামায়াত আমিরের সমাবেশ পণ্ড করার হুমকির যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে পৌর জামায়াত অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আ স ম সায়েম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দিন দুপুরে গণসংযোগ শেষে গোপাই মাখনা গ্রামে এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তি এসে জোরপূর্বক ছবি তুলতে এবং বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের জামায়াতের কর্মী দাবি করলেও স্থানীয়রা তাদের চিনতে না পারায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর মডেল থানা পুলিশ ও ভীমপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হলেও মাত্র সাত কিলোমিটার দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থী আরও দাবি করেন, পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং এ সময় বিএনপির কর্মীরা পুলিশের কাছ থেকে এসএস পাইপ কেড়ে নিয়ে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ এ সময় নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, সংঘর্ষে জামায়াতের কর্মী মুস্তাফিজকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার কানের পর্দা ফেটে যায় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড