
ফায়েজুল শরীফ,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদারীপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শতাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে জেলা শহরের উপকন্ঠে কাজীরটেক, পখিরা, পাঁচখোলা, লক্ষীগঞ্জ, বাবনাতলা, বাহেরচরকাতলা, চরমুগরিয়া, হাউসদি, কুলপদ্দি, মহিষেরচর সহ মাদারীপুর সদর উপজেলা এবং জেলার আরো ৪টি তথা রাজৈর, শিবচর, কালকিনি ও ডাসার উপজেলায়। এসব ইটভাটাগুলো এখন ফসলি জমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারীভাবে প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরীর পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতিতে বালু-সিমেন্ট-কংক্রিট দিয়ে ব্লক ইট তৈরীর জন্য ইটভাটা মালিক-ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার কার্যক্রম দেখা গেছে কিন্তু মাদারীপুরে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এখানে নামে মাত্র কালো পাথর কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর শুভংকরের ফাঁকির আড়ালে ছোট-বড় গাছ কেটে লাক্রি বানিয়ে তা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন ইটেরভাটা পরিদর্শন করে এর বাস্তব চিত্র পাওয়া গেছে। সারি- সারি গাছের গুড়ি চিড়াই করে লাক্রি বানিয়ে তা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। আর সাদা-কালো দাউ-দাউ ধোঁয়া নির্গমন করে দাউ-দাউ করে জ্বলছে ইটেরভাটাগুলো। এখন ইট তৈরী মৌসুম হওয়ায় এখানকার প্রায় সকল ইটভাটার চিমনিগুলো দিন-রাত ব্যতিব্যস্ত ইট পোড়ানোতে। এরফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি আবাদি জমির “টপ সয়েল” বা উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় কমছে ধান সহ বিভিন্ন ফসল, ফলন কমে যাচ্ছে কৃষি জমির, ঝরে পড়ছে আম-লিচুর মুকুল। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চর্মরোগ বাড়ছে আশপাশের মানুষের মধ্যে। সাংবাদিকদের কলম সচল হলে মাঝে-মধ্যে প্রশাসন থেকে ইটভাটায় অভিযানও পরিচালিত হয়। অবৈধভাবে ইট পোড়ানো , গাছ কেটে লাক্রির ব্যবহার, বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে অভিযানে মাঝে-মধ্যে জরিমানাও গুণে থাকেন ইটভাটার মালিকরা। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইটভাটা পরিচালনার ফলে কিছু ভাটা মাঝে-মধ্যে ভেঙ্গে ফেলা হলেও অল্পদিনেই মধ্যেই আবার তা চালু হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
পরিবেশবাদীরা বলছেন এসব অবৈধ ইটভাটা প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে চলে ? অনতিবিলম্বে তা বন্ধ করে মানুষ বাঁচাতে হবে, পরিবেশ বাঁচাতে হবে। তারা বলেন, জরিমানা নয়- স্থায়ীভাবে এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট তৈরীর উদ্যোগে বাধ্য করতে হবে প্রশাসন থেকে। আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের অভিমত, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের কাউকে-কাউকে ম্যানেজ করেও অবৈধ এসব ইটভাটা হরদম চলছে।