সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “আমার জীবন থাকতে নেতা-কর্মীদের একটি পশমেও কেউ হাত দিতে পারবে না।”
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামে হাঁস মার্কার নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, টিঘর গ্রামে আসার পথে তিনি দেখেছেন ভোটার, নেতা-কর্মী ও মা-বোনেরা বাড়ির ছাদে ও রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই স্টেজ, চেয়ার—সবকিছুর পেছনে কর্মীদের শ্রম, ঘাম ও অর্থ রয়েছে। আমি যদি এই কর্মীদের মর্যাদা না দিতে পারি, পাঁচ বছর পর আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি ভোটারদের সম্মান রক্ষা করতে না পারি, প্রয়োজনে যদি আমাকে আপনারা পাশে না পান, যদি আমার অফিস আপনাদের পরিচিত না হয়—তাহলে পাঁচ বছর পর দাঁতভাঙা জবাব দেবেন।”
গত পনেরো বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আজ সেগুলো বলতে চাই না। আপনারা যদি আমাকে পাঁচ বছর সময় দেন, সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়নসহ পুরো এলাকাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো।”
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের উন্নত সড়ক দেখে মনে হয় বাংলাদেশে নাকি বিদেশে আছি। অথচ নিজের এলাকায় গত দুই বছর গলি থেকে গলি ঘুরে দেখেছি—রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আপনারা কাকে ভোট দিয়েছেন, কাকে এমপি বানিয়েছেন, কী কাজ হয়েছে—সবই আপনারা জানেন।”
তিনি বলেন, “আমার এলাকার ১৯টি ইউনিয়ন আপনাদের পরামর্শে আমি নতুন করে সাজাতে চাই। এমন একজনকে এমপি বানান, যিনি সরকারি বরাদ্দের ৫০ ভাগ নিজের পকেটে ভরবেন না, যার ছ্যালা ও চামচারা ২৫ ভাগ ভাগিয়ে নেবে না।”
নারীদের প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, বিধবা, বয়স্ক ও অসহায় নারীরা তার কাছে সবাই সমান। তিনি বলেন, “আমি যেহেতু স্বতন্ত্র প্রার্থী, কোনো দলের নই—তাই সরকারের সব সুবিধা সবাই সমানভাবে পাবেন। সুবিধা পেতে আমার কাছে কোনো দল করতে হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশি কূটনীতিক বন্ধুদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি নারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী—তাই সরাইল ও আশুগঞ্জের দিকে তাদের নজর থাকবে। প্রশাসন, পুলিশ, আমলা ও বড় দলগুলোকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—যে প্রার্থীর সঙ্গে জনগণ আছে, দল না থাকলেও তার সঙ্গে ফাউল করা নিজের গলায় দড়ি দেওয়ার শামিল।”
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “যত বড় দল বা নেতা হোন, ফাউলের চিন্তাও করবেন না।”
সবশেষে তিনি বলেন, “হাঁস হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক, শান্তির প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক, সংসদে সত্য বলার প্রতীক এবং জনতার প্রতীক।” এ সময় তিনি উপস্থিত ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মা-বোনেরা ফজরের নামাজ শেষে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভাইয়েরা ভোট দিয়ে বিকেলে ভোট গণনা শেষে সই করে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরবেন।”
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড