রহমত আরিফ,ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
দেশের উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই আসনে লড়াই করছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে থাকা এই আসন এবার পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।
ঠাকুরগাঁও সদরের সাধারণ ভোটারদের মতে, দীর্ঘদিন পর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে ভোটারদের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সদর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকার তরুণ ভোটার রাসেল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জেলা অবহেলিত এবং দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু আমাদের জেলার নেতা না, তিনি সারা দেশে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে। আমরা আশা করি তিনি এবারের ভোটে জয়লাভ করবেন এবং এলাকার জন্য কাজ করবেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা বনিকা বালা বলেন, ‘আলমগীর স্যার ক্ষমতায় এলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
ঠাকুরগাঁওয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার নারী সমাবেশে করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং তাঁর দুই কন্যা।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলোওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুল দেশজুড়ে দলের নেতৃত্বে ব্যস্ত থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাই তাঁর পক্ষে জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী দেলোওয়ার হোসেন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
বিএনপি-জামায়াত স্নায়ুযুদ্ধ এক সময়ের মিত্র হলেও এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী অভিযোগ করেছেন, জামায়াত প্রার্থী দেলোওয়ার হোসেন অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং বাড়ি বাড়ি ক্যালেন্ডার বিলি করে নির্বাচনবিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি পোলিং অফিসারদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
পয়গাম আলী সাংবাদিকদের অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা পোলিং অফিসারের তালিকাটা বের করেন এবং দেখেন। পোলিং অফিসারের ৮০ পার্সেন্ট মাদ্রাসা শিক্ষক। এ ছাড়াও তিনি নিজের নামে ক্যালেন্ডার বানিয়ে বাড়ি বাড়ি দিচ্ছেন। আমরা এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
পাল্টা অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী মো. দেলোওয়ার হোসেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত কর্মকর্তাদের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বাধা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ কমে যাবে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে এবং অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ভোট প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো পক্ষকেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমাদের লক্ষ্য, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্র যেন নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয় এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে নিজের ভোট দিতে পারেন।’
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৯ জন। জয়-পরাজয় নির্ধারণে ১ লাখ ৯২ হাজার তরুণ ভোটার এবং ১ লাখ ১৯ হাজার সংখ্যালঘু ভোটারের বড় ভূমিকা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই আসনটি বিভিন্ন দলের মধ্যে হাতবদল হয়েছে। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ৯১ ও ৯৬ (জুন) সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে বিএনপি জয়লাভ করে। তবে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের দখলে ছিল। এবার সেই দুর্গ ভেঙে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য বিএনপির, আর নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায় জামায়াত।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড