কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর এক কিশোরী ও তার মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ (মুসলিমবাগ) এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তাঁর মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)। ফাতেমা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। রোকেয়ার স্বামী মো. শাহীন আহম্মেদ পেশায় একজন আইনজীবীর মুহুরি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা মুক্তিরবাগ এলাকার শামীম মিয়ার মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রাইভেট পড়তে যায়। ওই ফ্ল্যাটে তার গৃহশিক্ষিকা মীম ভাড়া থাকতেন। প্রাইভেট শেষে সন্ধ্যার দিকে ফাতেমার বাসায় ফেরার কথা থাকলেও সে আর ফিরে আসেনি। একই সময় তার মা রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর রোকেয়ার স্বামী শাহীন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ওই ভাড়া বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। প্রথমে এলাকাবাসী ময়লার দুর্গন্ধ মনে করলেও সময়ের সঙ্গে গন্ধ আরও প্রকট হয়। পরে গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করে তারা নিশ্চিত হন যে গন্ধটি গৃহশিক্ষিকা মীমের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকেই আসছে।
এ সময় ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বলা হলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় একটি বক্স খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ এবং বাথরুমের ফলস ছাদের ওপর থেকে তার কিশোরী মেয়ে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন নিহত ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মীম, তাঁর স্বামী হুমায়ন, মীমের বড় বোন নুরজাহান এবং ফাতেমার বান্ধবী মাহী।
ওসি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”নিহত রোকেয়ার ভাই জাহিদ বলেন, “আমাদের শুরু থেকেই গৃহশিক্ষিকার বিষয়ে সন্দেহ ছিল। বিষয়টি পুলিশকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমার ভাগ্নী ও বোনের গলায় স্বর্ণের চেইন ছিল। স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।”পুলিশ জানিয়েছে, স্বজনদের অভিযোগ ও বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড