রাজশাহী ব্যুরো:
চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ঘুষের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেন রাজশাহীর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা করেন।
আমির হোসেন জানান, অভিযুক্ত সৈয়দ আবজুরুল হক চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরের অধীনে কর্মরত ছিলেন ও বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে রয়েছেন। তিনি ২০১৫ সালের রেলওয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় খালাসি পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজের সরকারি পদমর্যাদা অপব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন।
জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়ার বাসিন্দা মো. ওয়ালী খান ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, সৈয়দ আবজুরুল হক রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েছেন। পরবর্তীতে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন ও ২০২৩ সালের ২১ মে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দুদকে পাঠান। একই বছরের ১৬ জুলাই দুদক সদর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।
তদন্তকালে দুদক জানতে পারে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে মোট ৮৬৫টি খালাসি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত সময়ে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এসএ পরিবহনের চট্টগ্রাম শাখার মাধ্যমে একাধিক লেনদেনে মোট ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অর্থ রাজশাহী থেকে পাঠানো হয়, যা অভিযোগকারীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পাঠানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও গ্রামীণফোনের যাচাইয়ে মোবাইল নম্বরগুলোর মালিকানা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) থেকে প্রাপ্ত কল ডিটেইল রেকর্ডে দেখা যায়, ওই সময়কালে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীর মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগ ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি ২০১৯ সালের ৭ জুলাই নোটারীকৃত একটি অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করেন, যেখানে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
পরবর্তীতে তিনি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ একটি স্বেচ্ছা জবানবন্দি দেন ও আবারও ২০২২ সালের ২৯ মার্চ নোটারীকৃত ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি অভিযোগকারীর কাছ থেকে মোট ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা এবং নগদে ৩৫ লাখ টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন।
দুদকের কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত প্রমাণে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজের পদমর্যাদা অপব্যবহার করেছেন, ঘুস গ্রহণ করেছেন ও চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড