কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
শীতের সকালে শিশির ভেজা ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ জুড়ে কেবল চোখে পড়ছে সরিষা ফুলের সমারোহ। কুয়াশার আলোতেই চকচকে সরিষা ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। প্রজাপতির দল ছুটে বেড়াচ্ছে ফুলে ফুলে। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষার বিস্তৃত মাঠ। চোখ জুড়ানো হলুদের মেলা প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে নিখুঁত ভাবে। মাঠের পর মাঠ যেন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে রাঙিয়ে দিয়েছে পুরো ক্ষেত। নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় সরিষার হলুদ ফুলে সজ্জিত বিস্তীর্ণ মাঠ। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ রঙের মেলা। ক্ষেতের পর ক্ষেতে সরিষা ফুলের এমনই নয়নাভিরাম দৃশ্য। দেখলেই জুড়িয়ে যায় নয়ন। মন বলে সেই হলুদের মাঝে মিশে যেতে। সরিষার ক্ষেতে নিজের স্মৃতি ধারণ করতে দলবেঁধে ছুটে আসছেন স্কুলের শিক্ষার্থী, তরুণ, শিশু এমনকি নানা পেশার মানুষ।নীলফামারীর সদর উপজেলার চাপড়া কাছারী এলাকার কৃষক রকি ইসলাম জানান, অধিক লাভের আশায় ৫ একর জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে। এবং ন্যায্য বাজার মূল্য পেলে অনেক লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তুলছেন মোবাইল ও ক্যামেরায়। দূর থেকে ভেসে আসছে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধ। মধু সংগ্রহে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল। তাদের গুনগুন সুরে বিমোহিত চারদিক। মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। প্রতিটি সরিষার দানায় দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। হলুদের মাঠে কৃষকের ছোট ছোট অপূর্ণ শখ খেলা করছে এখন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কৃষকের পরিবারে এখন লাভের হাতছানি। এটি সবজি খাওয়ার পাশাপাশি মসলা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় । তবে শীতকালীন ফসল সরিষা প্রধানত ব্যবহার হয় ভোজ্যতেল হিসেবে। গবাদি পশুর খাদ্য ও জমির সার হিসেবে সরিষার খৈল ব্যবহার করা হয়। বহুবিধ ব্যবহারযোগ্য এই শস্য সরিষার আবাদে খরচ নামমাত্র। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও হয় বাম্পার, হাটে মেলে ভালো দাম। তাই প্রতি বছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সরিষার চাষ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় ৫৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে ভালো ফুল এসেছে এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরিষা চাষিরা জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলা আলুর জন্য বিখ্যাত। এখানকার কৃষকরা প্রধানত আলু চাষ করেন। তারপরও কিছু জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এবার বীজ বপনের পর পর্যাপ্ত শীত ও কুয়াশার কারণে গাছের আকৃতি ভালো রয়েছে। পাশাপাশি পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় চাষে অতিরিক্ত খরচও হয়নি। ফলে সরিষা গাছে ফুল অনেক ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, “চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ৫শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। রোগবালাই কম হওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সার ও বীজ প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত জমি পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড