1. news@dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  2. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ধরলা পাড়ে ঈদের আনন্দে উপচে পড়া ভিড়, উৎসবমুখর পরিবেশ ঈদের ভোরেও ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠল ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যমুনায় জনস্রোত “ঈদের আলোয় আলোকিত হোক” দেশবাসীকে সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান মিলনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ বাংলাদে‌শি‌ আজারবাইজানে পৌঁছেছেন ঈদের দিন ঝড়সহ শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল ফিতর শনিবার কাশিমবাজারে অবৈধ বালু উত্তোলন এক ব্যক্তিকে জরিমানা আমাতলীতে ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন উদ্যোগে ও উপদেষ্টার অর্থায়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ লালমনিরহাটে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার ডিমলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দেয়ায় চেয়ারম্যান পুলিশসহ আহত দশ ইরানের হামলায় কাঁপল সৌদি-কাতার-কুয়েত-বাহরাইন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ লালমনিরহাটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন,ত্রান মন্ত্রী সৌদি আরবে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা নান্দাইলের পোরাবাড়িতে ইসলামী যুব আন্দোলনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক পাম্পে নেই তেল; খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে

পেটের দায়ে কুয়াশা উপেক্ষা, রাজশাহীর শ্রমজীবীরা রাস্তায়!

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে
নাহিদ ইসলাম,রাজশাহী ব্যুরোঃ
ভোরের রাজশাহীতে ঘন কুয়াশা যেন সবকিছুকে গিলে খাচ্ছিল। হিমেল বাতাসে ধুয়ে যাওয়া সড়ক, চোখে পড়া নেই এমন কুঁদুলি ধূসর আকাশ, আর আর্দ্র পরিবেশ—সব মিলিয়ে শহর যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই পুরো নগরী ঢেকে যায় কুয়াশার চাদরে। সকাল পেরিয়ে বেলা গড়ালেও সূর্যের দেখা মেলেনি, এবং শহরের রংমাখা সকাল কেবল ধূসর নীরবতায় ঘূর্ণমান।
তবে দুপুরের দিকে সূর্যের আভাস মিলতেই কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে নগরজীবনে। হালকা রোদ গায়ে পড়লে মনে হয়, প্রাকৃতিক এই মুহূর্তই যেন শ্রমজীবী মানুষের একটুখানি প্রশান্তি উপহার দিচ্ছে। তবে ততক্ষণে কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমে পড়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষেরা দিনের বড় অংশ পার করে দিয়েছেন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই—হাত-পা শীতল, চোখে জল, কিন্তু হাল ছাড়েননি একটুও।
কুয়াশা ও শীতের এই অনবরত প্রভাব শহরের রুটিনে স্পষ্ট। যানবাহনের ধীরগতি, মানুষের কম উপস্থিতি, এবং ঘরের উষ্ণতা আর জীবিকার মাঝখানে ফেঁসে থাকা শ্রমিকদের দৃশ্য—সব মিলিয়ে নগরজীবন যেন একটি ধীর, নিঃশব্দ লড়াইয়ে আবদ্ধ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকেই রাজশাহীতে কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত যত গভীর হয়েছে, কুয়াশাও তত ঘন হয়েছে। সঙ্গে বইতে থাকে উত্তরের হিমেল হাওয়া। ভোরের দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন ছিল যে কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের গতি ছিল ৩ নটিক্যাল মাইল এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আকাশে মেঘ ও কুয়াশার আধিক্যের কারণে দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে।
ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাসের প্রভাব পড়েছে নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। ভোরের দিকে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সকাল বেলায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে অনীহা দেখায়।
তবে জীবিকার তাগিদে কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই ভোর সকাল থেকে কাজে বের হতে দেখা গেছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষদের। শীতের তীব্রতা তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি।
ভোরে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় কথা হয় দিনমজুর আব্দুল মালেকের সঙ্গে। কম্বল জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই শ্রমিক বলেন,“শীত খুব বেশি পড়ছে। ভোরে কাজে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তবু বের হতেই হয়। একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না।”
একই এলাকার রিকশাচালক লিটন আলী জানান,
“কুয়াশার কারণে সকালে যাত্রী কম থাকে। ঠাণ্ডায় শরীর কাঁপে, চোখ জ্বালা করে। তারপরও রাস্তায় নামতে হয়, না নামলে আয় নেই।”
শিরোইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোরে দেখা যায় একদল নির্মাণশ্রমিক দাঁড়িয়ে আছেন কাজের অপেক্ষায়। তাদের একজন জাহিদুল ইসলাম বলেন,“শীত পড়লে কাজ কমে যায়। মানুষ বাইরে বের হয় না, তাই কাজের ডাকও আসে না। আজ সকালেও এখনো কোনো কাজ পাইনি।”
ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সকালবেলা মহাসড়ক ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল ছিল সতর্কতার সঙ্গে। অনেক চালক হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। এতে করে যাত্রী পরিবহনে সময় বেশি লাগছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়ে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা খোলা জায়গায় কাজ করেন, তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে কুয়াশা ও শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। রাত ও ভোরে কুয়াশা আরও ঘন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শীত মোকাবিলায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করা না হলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২৬,আমাদের প্রকাশিত সংবাদ,কলাম,তথ্য,ছবি,কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট