
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত মানবিক উদ্যোগ আশ্রয়ন প্রকল্প আজ কালিয়াকৈরে রীতিমতো প্রভাবশালী মহলের দখলকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না, তাদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো এখন স্থানীয় নেতা, রাজনৈতিক কর্মী এবং প্রাইভেট কারে চলাচলকারী সচ্ছল ব্যক্তিদের কবজায়। আর কর্মসংস্থানের অভাবে প্রকৃত গৃহহীনরা একে একে প্রকল্প ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আশ্রয়ন প্রকল্পের বহু ঘরে তালাবদ্ধ দরজা, অথচ তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীরা সেখানে নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জীবিকার অভাবে তারা ঢাকার বিভিন্ন বস্তি, গাজীপুর শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় দিনমজুরের কাজে চলে গেছেন। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে এসব ঘর দখল করে নিয়েছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহারকারী নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দের সময় থেকেই চলে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুপারিশের বাণিজ্য। অনেক প্রকৃত গৃহহীনকে তালিকায় রাখা হলেও বাস্তবে ঘরের চাবি দেওয়া হয়নি। আবার কেউ কেউ অস্থায়ীভাবে ঘর পেলেও টিকে থাকার মতো কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে সেগুলো ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমাদের থাকার জায়গা দেওয়া হলো, কিন্তু পেট চালানোর কাজ নেই। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাইরে চলে গেছি। এখন শুনছি আমাদের ঘরে বড়লোকরা থাকছে।” আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে—কিছু ঘরে প্রভাবশালীরা নিয়মিত ভাড়াটিয়া বসিয়ে অর্থ আদায় করছে। সরকারি আশ্রয় এখন পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আশ্রয়ন প্রকল্প কেবল ঘর নয়, এটি টেকসই পুনর্বাসনের একটি মডেল। অথচ এখানে কর্মসংস্থান, নজরদারি ও জবাবদিহিতার সম্পূর্ণ অভাব প্রকল্পটিকে ব্যর্থ করে তুলছে। এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ এবং প্রকৃত গৃহহীনদের জন্য স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় কালিয়াকৈরের আশ্রয়ন প্রকল্প দুর্নীতি ও দখলবাজির এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবেই থেকে যাবে।
আ