কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
রাজধানীসংলগ্ন ঢাকা–২ আসন আবারও জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত তরুণ নেতা জাবেদ হোসেন। তাঁর এই মনোনয়ন সংগ্রহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রার আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট অস্বস্তি; মাঠপর্যায়ে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে তরুণ বনাম প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা।
নির্বাচন কমিশনের নতুন সীমানা অনুযায়ী ঢাকা–২ এখন গঠিত—কেরাণীগঞ্জের তারানগর, কলাতিয়া, হযরতপুর, রুহিতপুর, শাক্তা, কালিন্দি, বাস্তা ইউনিয়ন এবং সাভারের আমীনবাজার, তেঁতুলজোড়া ও ভার্কুতা ইউনিয়ন নিয়ে।নতুন কাঠামোয়—ভোটার সংখ্যা বেড়েছে,উন্নয়ন–সংকট আরও জটিল হয়েছে,তরুণ ভোটারের অনুপাত বেড়ে নির্বাচনী সিদ্ধান্তে প্রভাবক হিসেবে উঠে আসছে।ফলে দলগুলোকে আগের তুলনায় ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থী–ইমেজই বেশি প্রভাব বিস্তার করে।
২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই আলোচনায় আসেন কেরাণীগঞ্জের স্থানীয় তরুণ জাবেদ হোসেন। ২৪ এর জুলাই আনদোলনে কেরাণীগঞ্জ এলাকায় আন্দোলনের মাঠ–সমন্বয়ক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয় যুবসমাজের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।
গত বছরের জুলাই আন্দোলনের বেশ কয়েকটি ঘোষণা—বিশেষত ৪ আগস্ট ভাওয়াল এলাকায় ঘটে যাওয়া জুলাই বিপ্লবে দেওয়া বক্তব্য তাঁকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। এখন সেই পরিচয় রাজনীতিতে তাঁর অন্যতম শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর জাবেদ বলেন,
“রাজনীতি শুধুই প্রতিশ্রুতির কথা নয়; উন্নয়নের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হয়। আমি ঢাকা–২–এর জন্য একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড সল্যুশন প্ল্যান’ তৈরি করছি।আমার অনেক গুলো পরিকল্পনা রয়েছে তন্মধ্যে কেরাণীগঞ্জ–সাভারে মহাসড়কের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন,সড়ক–পরিকাঠামোর সামঞ্জস্যহীনতা দূর,নদী–খাল দখলমুক্ত করা,যুবসমাজের কর্মসংস্থান,মাদকসংক্রান্ত উদ্বেগ কমানো,রাজনৈতিক আধিপত্য–সংকট কমিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি উল্লেখযোগ্য। তিনি আরও বলেন,“মনোনয়ন–প্রক্রিয়া নিয়ে আমি আশাবাদী। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে,ঢাকা ২ এর উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।”
জাবেদের মনোনয়ন প্রসঙ্গে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন দৈনিক আলোকিত নিউজকে বলেন,
“আমরা এবার তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। পরিচ্ছন্ন ইমেজ, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা—এই তিনটি ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই করা হচ্ছে।ঢাকার আসনগুলোতে গ্রাউন্ড ক্যানভাসিং হবে মূল কৌশল।
দলীয়ভাবে কেউ মনোনয়ন কেনার মাধ্যমে নিশ্চিত প্রার্থী হয়ে যাচ্ছেন—এমন ধারণা দল খারিজ করে দিয়েছে।দল সবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে দল সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে।
ঢাকা–২–এ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—তরুণ ভোটারদের মধ্যে জাবেদকে ঘিরে আগ্রহ বেশি,মধ্যবয়সী ভোটাররা উন্নয়ন–অচলাবস্থা ভাঙার দাবি তুলছেন,প্রবীণ ভোটাররা চান স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব।
আটিবাজার এলাকার এক প্রবীণ ভোটার বলেন,
“একই গল্প অনেক শুনেছি। এবার দেখি নতুনরা আদৌ কী করতে পারে।”
এই আসন থেকে এনসিপিসহ বড় দলগুলোরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে—জনসংযোগ,আন্দোলন–রাজনীতির অভিজ্ঞতা,ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি, তরুণদের সমর্থন—এই সবকিছু মিলিয়ে জাবেদ এখন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে।
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,“জাবেদ প্রার্থী হলে ভোটের অঙ্ক নতুন করে সাজবে। প্রথাগত বলয়ের জন্য এটা আরামদায়ক পরিস্থিতি নয়।”
জুলাই আন্দোলনের রাজপথ থেকে জাতীয় নির্বাচনের মাঠে জাবেদের হঠাৎ উত্থান যে আলোচনার ঝড় তুলেছে—তা ঢাকা–২–এর রাজনীতিকে নতুন চাপে ফেলেছে। তরুণ নেতৃত্ব বনাম পুরোনো রাজনৈতিক বলয়ের দ্বন্দ্ব—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে আসনটি এবার বাড়তি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।এখন প্রশ্ন একটাই—এনসিপি শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়?উত্তর মিললেই স্পষ্ট হবে—ঢাকা–২ কি সত্যিই নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে!
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড