ডুমুরিয়া প্রতিনিধিঃ
নাম তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুনলেই মনে হয় অসুস্থ মানুষের আশ্রয়স্থল, প্রাণ ফেরানোর ঘর। কিন্তু খুলনার ডুমুরিয়ার এই হাসপাতালের চিত্র যেন তার সম্পূর্ণ উল্টো।
সাদা রঙে রঙিন নতুন ভবনে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে অপরিচ্ছন্নতার ছাপ। করিডোরজুড়ে জমে থাকা ধুলা, কোণায় কোণায় বমির দুর্গন্ধ, ভাঙা বাথরুম আর নোংরা মেঝে রোগী-স্বজনকে আতঙ্কিত করে তোলে। যেন স্বাস্থ্যসেবার মন্দির নয়, অবহেলার আস্তানা।
চিকিৎসকরা থাকেন অনুপস্থিত, সময়মতো ডিউটিতে না আসা তাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যে কয়জনকে পাওয়া যায়, তাদের সঙ্গেও মেলে অবহেলার সুর। রোগীর যন্ত্রণার চেয়ে যেন অন্য কাজেই বেশি মনোযোগী তারা। নার্সদের ব্যবহার নিয়েও ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেক রোগী—যেন অসুস্থ মানুষ নয়, অনাহুত বোঝা।
আরও এক মূষলধারার যন্ত্রণা হলো দালালদের দৌরাত্ম্য। হাসপাতালের ভেতরেই সক্রিয় তাদের উপস্থিতি। একে একে রোগীদের কানে কানে ফিসফিসিয়ে দেয় বেসরকারি ক্লিনিকের নাম। জীবনের ভয় দেখিয়ে, মায়ার জাল ফেলে টেনে নিয়ে যায় সেবার নামে ব্যবসার অঙ্গনে।
খাবারের মান নিম্নস্তরের, সরকারি ওষুধও প্রায়শই মেলে না। রোগীদের কষ্টের পুঁজি যেন এখানে দালাল আর ওষুধ কোম্পানির পকেটে জমা হয়।
তবুও হাসপাতালের দেয়ালে টাঙানো বোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকে—“রোগীর সেবা আমাদের অঙ্গীকার”। অথচ সেই অঙ্গীকার কাগজেই আটকে থাকে, বাস্তবে দেখা মেলে কেবল দীর্ঘশ্বাস আর অভিযোগের পাহাড়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই হাসপাতাল যদি সত্যিই অসুস্থ মানুষের প্রাণ ভরসার জায়গা হতো, তবে হয়তো কোনো মা সন্তানকে কোলে নিয়ে চোখ ভিজিয়ে বলতেন—“এখানেই আমার সন্তানের জীবন বাঁচল।” কিন্তু এখন তারা কেবল অসহায় কণ্ঠে প্রশ্ন করেন—“এই হাসপাতাল আসলে কাদের জন্য?”
স্থানীয়রা মনে করেন, ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড