আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
সাভার, আশুলিয়া (ঢাকা-১৯) আসনে জনসভার আয়োজন করেন। আজ শুক্রবার ৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা জামায়াতের সম্মানিত আমীর, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা- ১৯ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জননেতা অধ্যক্ষ আফজাল হোসাইন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাভার পৌর মেয়র পদ প্রার্থী (রাজনৈতিক সেক্রেটারি) হাসান মাহবুব মাস্টার।
সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম। ঢাকাজেলা আইন বিষয়ক সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পরিচালক ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ লুৎফর রহমান। কর্ম পরিষদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা। এবং থানা ও জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় আশুলিয়া থানা আমীর অধ্যক্ষ বশির আহমেদ বলেন,জুলাই মাসে বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এই আগস্ট মাসের ৫ তারিখে।
যেই সপ্ন নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, আমি আজকে
এই উপস্থিত জনতার কাছে আহবান জানাতে চাই,সেই সপ্ন পূরণের জন্য,বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য ঢাকা -১৯ আসনে কোন বৈষম্য যেন না থাকে সেই জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আফজাল হোসাইনকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় জয়যুক্ত করার জন্য জান প্রাণ দিয়ে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান। শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন ঢাকা জেলা সভাপতি মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী কে ট্যাগ দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবেনা। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে যেই গনজাগরন তৈরী হয়েছে, সেই জাগরেন মাধ্যমে ২৬ সালের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হাসান মাহবুব মাস্টার বলেন,যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ২৪ সনে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে, তাদেরকে আমরা এই সমাবেশ থেকে শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করছি। জীবন দিয়ে যারা স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে তারা এই জাতির বীর সন্তান। তাদেরকে আমরা সারা জীবন মনে রাখবো ইনশাআল্লাহ। যারা ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানকে স্বীকার করে না,তারা নব্য রাজাকার। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও চাঁদাবাজি, এখনও শেষ হয়ে যায়নি।দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইট দিয়ে পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করছে একটি দল।
যারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো আচরন করছে, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষের জান মাল নিরাপদ নয়।তিনি বলেন চাঁদাবাজির ঠিকানা এই বাংলায় হবে না।
আমরা চাঁদা নিবো না,চাঁদা নিতেও দিবো না।
জামায়াতে ইসলামি এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে দূর্বলের উপর স্ববলের কোন আধিপত্য থাকবেনা।( রাসুলের একটি হাদিস বলেন,যারা নিজের হাতে ইনকাম করে, তারা আল্লাহর বন্ধু)। জামায়াতে ইসলামী যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যায় তাহলে মা বোনেরা বাসায় ও কর্মস্হলে এবং পথে-ঘাটে নিরাপদ থাকবে ইনশাআল্লাহ।আমাদের কে রাজাকার বলে যারা গালি দিতে চায়,তাদেরকে পতিত সরকার থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানান। রাজাকারের ট্যাগ লাগিয়ে ইসলামকে দমিয়ে রাখা যাবেনা।আগামী দিনে জনগণের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রধান বক্তা অধ্যক্ষ আফজাল হোসাইন বলেন,আজকে আমরা বাংলার এই ছোট ভূখণ্ডে প্রতিবাদ করতে পারছিনা,সঠিক তথ্য প্রচার করা যাচ্ছে না, মিডিয়ার মাধ্যমে জাতির কাছে সত্য খবর প্রচার করা যাচ্ছে না।চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যারা কলম ধরছে,তাদেরকে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাসী করার সাহস কেউ পাবে না ইনশাআল্লাহ। চাঁদাবাজ থাকবেনা,দূর্নীতি থাকবেনা। তিনি বলেন, আজকে আমাদের আশুলিয়া অঞ্চল যানযটে পরিপূর্ণ। ফুটপাতে ভ্যান বসিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীকে এদেশের সেবক হিসেবে গ্রহন করলে, ফুটপাতে যারা ব্যবসা করছেন,তাদের জন্য উত্তম ব্যবস্হা করা হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার সুযোগ কারো থাকবেনা।
আমাদের এই আশুলিয়া অঞ্চল শিল্প অঞ্চল, যেখানে নারী শ্রমিক চাকরি করে। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাকরি করতে পারবে না।তিনি বলেন জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা গেলে এই অঞ্চলের মা বোনেরা আরও বেশি সুযোগ সুবিধা নিয়ে কর্মস্হলে কাজ করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী যদি এদেশের শাসনভার গ্রহন করে,এই জাতি যদি জামায়াতে ইসলামীকে সেবক হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে,তাহলে জামায়াতে ইসলামী এদেশের অবকাঠামো পরিবর্তন করবে ইনশাআল্লাহ। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে জনগনের সেবায় নিয়োজিত হতে পারেনি।একটি বছর হয়ে গেলো আমরা এখনও দৃশ্যমান কোন বিচার দেখতে পাইনি।আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, অনতিবিলম্বে বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।আগামী দিনে সকল রকমের চ্যালেঞ্জিং এর মোকাবেলা করে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয় করার আহবান জানান।
প্রধান অতিথি মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার জন্য এমন কোনো পরিকল্পনা নেই তারা করেনি।কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।জামায়াতে ইসলামীর আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।বাংলার বীর সন্তানদের হত্যা করে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার যে পরিকল্পনা তারা করেছিলো। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠন এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এদেশের জনগন জামায়াতে ইসলামীকে যেভাবে গ্রহন করেছে,জনগণ আশা করছে ২৬এর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রনালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।এদেশের সাংবাদিক মহল,বুদ্ধিজিবী মহল,আপামর জনগন কেউ বলতে পারবেনা, জামায়াতের মন্ত্রীরা দুই টাকার দূর্নীতি করেছেন।এর দ্বারা প্রমানিত হয় দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেই সম্ভব। জনগনকে আহবান করতে চাই,জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। আগামীতে জনগণের সমর্থন নিয়ে তারা যদি সরকার গঠন করতে পারে। এমন একটি রাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামি কায়েম করবে, যে রাষ্ট্রে আজকে যারা দুর্নীতি করছে, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করেছে, বাংলাদেশকে শোষণ করেছে, তাদের স্হান এই দেশে হবেনা।
সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আর ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন বিকল্প কিছু নেই। আগামী দিনে কুরআন দিয়ে দেশ পরিচালনার জন্য দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকার আহবান জানান।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড